ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬ , ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২ হাজার কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিক্রি ও নারীঘটিত কেলেঙ্কারি: কাটগড়ায় বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক আরিফ হাসনাত

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৬-২৩ ০৭:৫০:৫৫
২ হাজার কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিক্রি ও নারীঘটিত কেলেঙ্কারি: কাটগড়ায় বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক আরিফ হাসনাত ২ হাজার কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিক্রি ও নারীঘটিত কেলেঙ্কারি: কাটগড়ায় বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক আরিফ হাসনাত
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বন্দর ও পরিবহন বিভাগের বর্তমান পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন ওরফে আরিফ হাসনাতের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অবৈধ উপায়ে শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি একটি অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকা অবস্থায় স্থানীয় জনতার হাতে তিনি অবরুদ্ধ হন এবং পরবর্তীতে বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেন বলে জানা গেছে। ​


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা অবস্থায় এলাকাবাসীর হাতে হাতেনাতে ধরা পড়েন বিআইডব্লিউটিএর এই প্রভাবশালী কর্মকর্তা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে প্রায় ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি রফাদফা করেন তিনি। একজন উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার এমন নৈতিক স্খলনজনিত কাণ্ড এবং অর্থ দিয়ে তা ধামাচাপা দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ​আরিফ হাসনাতের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে কক্সবাজারের রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে দেওয়ার বিষয়ে।


অভিযোগ অনুযায়ী, কক্সবাজার সদর উপজেলার এন্ডারসন রোড এলাকায় অবস্থিত বিআইডব্লিউটিএর প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার মূল্যবান সরকারি সম্পত্তি তিনি মাত্র ২ কোটি ৭৯ লাখ টাকায় 'টোকিও মিল জেভি' নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দেন। এই বিশাল অঙ্কের রাষ্ট্রীয় ক্ষতির ঘটনায় পরিচালক আরিফ হাসনাতসহ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিশেষ অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়ার আবেদনও জমা পড়েছে। ​ ​


অনুসন্ধানে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এবং খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোগী ছিলেন আরিফ হাসনাত। এই প্রভাবশালী মহলের সাথে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে তিনি বিআইডব্লিউটিএর বিভিন্ন মেগা প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) পদ বাগিয়ে নেন এবং হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ​ক্ষমতার অপব্যবহার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে দুদকের উপ-পরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে গঠিত দুই সদস্যের একটি কমিটি তার বিরুদ্ধে মূল অনুসন্ধানটি শুরু করে। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে এক চিঠির মাধ্যমে বিআইডব্লিউটিএর কাছে আরিফ হাসনাতের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আর্থিক নথিপত্র তলব করা হয়। এই অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকা নদীবন্দরে (সদরঘাট) তার দায়িত্ব পালনকালীন সমস্ত ব্যাংক হিসাব ও সরকারি রাজস্ব আদায়ের বিবরণীও তলব করা হয়েছে। পূর্বে তিনি ঢাকা সদরঘাটের যুগ্ম-পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ​



আলাদিনের চেরাগ: আরিফ হাসনাতের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ ​অভিযোগকারীদের দাবি, দুর্নীতির মাধ্যমে আরিফ হাসনাত শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। দুদকের অনুসন্ধানে তার ও তার পরিবারের নামে যেসব স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে, রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে একটি আধুনিক বহুতল আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন। ঢাকার অভিজাত এলাকা বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। নিজ জেলা পাবনায় বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি ও মূল্যবান স্থাবর সম্পত্তি।



একাধিক বেসরকারি ব্যাংকে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল অঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর)। ​অর্থ বিভাগের স্পষ্ট আপত্তি থাকা সত্ত্বেও বিআইডব্লিউটিএর সাংগঠনিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে ক্ষমতার জোরে আরিফ হাসনাত কীভাবে 'পরিচালক (এস্টেট ও আইন)' এবং 'পরিচালক (বন্দর ও পরিবহন)' পদের সমমানের আর্থিক ও প্রশাসনিক সুবিধা ভোগ করছেন, তা নিয়ে বর্তমানে দাপ্তরিক তদন্ত চলছে। ​উচ্ছেদ অভিযানের আড়ালে ভিন্ন রূপ ​উল্লেখ্য, কর্মজীবনের একপর্যায়ে ঢাকার চারপাশের নদী (বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা) দখলমুক্ত করার উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দিয়ে গণমাধ্যমে একজন 'সাহসী কর্মকর্তা' হিসেবে বেশ আলোচিত ও প্রশংসিত হয়েছিলেন আরিফ হাসনাত।



তবে পরবর্তীতে অভিযোগ ওঠে যে, সেই উচ্ছেদ অভিযানের আড়ালেও তিনি নানাবিধ অনৈতিক সুবিধা ও ব্যক্তিগত ফায়দা হাসিল করেছেন। ​বিআইডব্লিউটিএর এই শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা নৈতিক স্খলন ও শত কোটি টাকার দুর্নীতির এই মহাসাগর খতিয়ে দেখে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ নাগরিক সমাজ।



 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Banglar Alo News Admin

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ